ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার

এইমাত্র একটা মজার খবর পড়লাম – গুগল নিউজের পাতায় ওপরের দিকেই ছিল বলেই বোধহয় নজরে পড়ে গেল। আর খবরটাও নজিরবিহীন। প্রিন্স উইলিয়াম – যিনি কিনা ব্রিটিশ সিংহাসনের দাবীদার, তাঁর জন্মসূত্রে নাকি ভারতীয় পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। ব্যাপারটা কিরকম? না একধরনের মাইটোকন্ড্রিয়াল জিন আছে যা নাকি মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে চলে আসে। সেই সূত্র ধরে খুঁজতে খুঁজতেই এই আবিষ্কার – কারন এমন একটি জেনেটিক কোড আছে যা নাকি ভারতীয় হতে বাধ্য।

এখন এই জেনেটিক আবিষ্কারের সূত্র ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গেছে – উইলিয়ামের মা ডায়নায় উর্ধতন পঞ্চম পুরুষ থিওডর ফোর্বস (1788-1820) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতে আসেন এবং সুরাটে থাকাকালীন এক ভারতীয় মহিলাকে পরিচারিকা নিযুক্ত করেন, যার নাম এলিজা কেওয়ার্ক। তাঁরা কখনও বিয়ে করেননি, কিন্তু তাঁদের প্রথম কন্যা ক্যাথরিনের বংশধর হলেন এক কালের হাইনেস, প্রিন্সেস ডায়না। এই রিসার্চ করেছেন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাস ও বিজ্ঞান – দুই দিক থেকেই এই আবিষ্কার চাঞ্চল্যকর বটে।
মজার কথা হচ্ছে এই যে ব্রিটিশ জাত আমাদের উপমহাদেশ দাপিয়ে মাড়িয়ে শোষন করে গেছে দুই শতাব্দী, সেই জাতের রাজপরিবারের সাথে সম্পর্ক বেরিয়ে পড়ায় আমাদের কি ভারতীয় হিসেবে খুব একটা গর্ব হওয়া উচিত? জানি না। আমার যুক্তরাজ্য (ইউনাইডেট কিংডম – অর্থাৎ ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং নর্দার্ণ আয়ারল্যান্ড) ভ্রমণ ও সেখানে বেশ কিছু সময় থাকার অভিজ্ঞতা কিন্তু উলটো কথা বলে। সেখানে আইরিশ, স্কটিশ ও ওয়েলসরা কিন্তু একেবারেই ব্রিটিশদের ভালো চোখে দেখে না। ব্রিটিশ জাত যে শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ বা অন্যান্য উপনিবেশে ছড়ি ঘুরিয়েছে তা নয় – নিজের প্রতিবেশীদেরও এক কালে কম জ্বালায় নি। তবে কিনা আমরা তো শেষমেষ ভারতীয়, কাজেই এই ঘটনা হ্যাংলাপনা করে মুখ দিয়ে লাল ঝরিয়ে, গাল ভরিয়ে অনেক কথা হয়তো পত্র পত্রিকায় দেখা যাবে – কারন ইতিমধ্যেই গুজরাটে নাকি খোঁজ শুরু হয়ে গিয়েছে রাজকুমারের পিসতুতো / মামাতো / কাকাতো ভাইয়ের খোঁজ। সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।


তথ্যসূত্র:
১) ইকোনমিক টাইমস
২) ইন্ডিপেন্ডেন্ট